জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:
কক্সবাজার সরকারী কলেজের ছাত্রী নিবাস থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামক কলেজ ছাত্রী ২০ সেপ্টেম্বর রাতে হাতেনাতে আটক হয়। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে তাকে হোস্টেল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে ছাত্রী হোস্টেলে থেকে তিনি কিভাবে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়লেন? নেপথ্যে রহস্য কি? ইয়াবাসমূহ হোস্টেলে কিভাবে ঢুকলো? কার সঙ্গে শরীফার যোগাযোগ? এসব প্রশ্ন অনেকের।
শরীফার বাড়ী টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আলী আকবরপাড়া লিয়াকত আলীর বড় মেয়ে।
শরীফার বাবা মাওলানা লিয়াকত আলী স্থানীয় মৌলভীবাজার গাউছিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার।
তিনি হ্নীলার শীর্ষ ইয়াবা কারবারী পানখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মাবুদের ছেলে এরশাদুর রহমানের ভায়রা ভাই।
মাওলানা লিয়াকত আলীর স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ও ইয়াবা কারবারী এরশাদুর রহমানের স্ত্রী বেলী আক্তার আপন বোন। সে হিসেবে মাওলানা লিয়াকত আলী এবং ইয়াবা ডিলার এরশাদ আপন ভায়রা ভাই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাদের আত্মীয়রতার সম্পর্ক যেমন ভাল। তেমনি তাদের পারিবারিক সম্পর্কও বেশ চমৎকার এবং মধুর। এরশাদ পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন চট্টগ্রাম শহরের এক আভিজাত এলাকায়। তবে সময়ে অসময়ে তিনি তার ঠিকানা অদল বদল করেন বলে জানাগেছে।
শরীফাদের নিকটাত্মীয় এবং স্থানীয়রা জানিয়েছেন তার সেই খালাম্মা হলেন হ্নীলার পানখালী এলাকার শীর্ষ ইয়াবা কারবারী এরশাদের স্ত্রী বেলী আক্তার। বেলী এবং তার স্বামী বহু বছর ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে যুক্ত। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই প্রসিদ্ধ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। প্রদীপ আমলে নিজেদের বাঁচাতে বিদেশে পালিয়ে বেড়ান। পরে দেশে এসে আত্মগোপনে ছিলেন। দুয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেখানে বসেই ইয়াবা দম্পত্তি এরশাদ-বেলী বিভিন্ন মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে গোয়েন্দা সুত্র জানিয়েছেন।
আটকের পর শরীফা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন, ইয়াবার চালানটি তার খালাম্মার। এদিকে খালা বেলী আক্তারই তার কাছে ইয়াবার চালানটি রেখেছেন বলে আটক কলেজ ছাত্রী শরীফা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হ্নীলা থেকে জনৈক আবুল হোসন আবুইল্ল্যার ছেলে পুইত্তাসহ বেশ কয়েকজন পাচারকারী রয়েছেন। যারা এরশাদ এবং বেলীর ইয়াবার চালান পৌঁছে দেন। কক্সবাজারে এরশাদ-বেলীর প্রধান এবং বিশ্বস্থ এজেন্ট ভাগিনী তথা কলেজ ছাত্রী শরীফা। কলেজে থেকেই সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার চালান রিসিভ করেন। সেখান থেকে আবার বিভিন্ন মাধ্যমে (বিশ্বস্থ স্বজনদের দিয়ে) খালা এবং খালুর কাছে ইয়াবার চালান পাঠান।
২০ সেপ্টেম্বর কলেজ হোস্টেল থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে আটকের পর থেকে শরীফাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন অভিভাবকদের অনেকে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, কলেজ ছাত্রী শরীফাদের ব্যবহার করে ইয়াবা কারবারী এরশাদ এবং তার স্ত্রী বেলী কক্সবাজার সরকারী কলেজে পুরো হ্নীলা-টেকনাফের ভাবমুর্তি একেবারে ক্ষুন্ন করেছেন। ইয়াবা নিয়ে হ্নীলার মেয়ে কলেজ ছাত্রী শরীফা আটকের পর থেকে পুরো কক্সবাজার শহর এবং কলেজ পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে সমালোচনা করতে দেখা গেছে। এদিকে পুলিশের হাতে ইয়াবার চালানসহ কলেজ ছাত্রী আটকের পর থেকে তদন্ত পূর্বক ইয়াবার প্রকৃত মালিককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবক সমাজের প্রতিনিধিরা।
টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক স্কুল হ্নীলা আল ফালাহ একাডেমীর পরিচালনা কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও হ্নীলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু বিস্ময়ের জানান, কক্সবাজার সরকারী কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে ইয়াবা নিয়ে ছাত্রী আটক হলো! তিনি ইয়াবার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে দ্রুত সময়ে দৃষ্টিমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে আটক কলেজ ছাত্রীর খালু এরশাদুর রহমানের মুঠোফোনে বেশ যোগাযোগ করা হয়। পরে তার ব্যবহ্রত ওয়াটসআপ নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। শেষে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তিনি উপরোক্ত বিষয়ে কোন বক্তব্য দেননি। শরীফার বাবা মাওলানা লিয়াকত আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এরশাদের স্ত্রী বেলী তার আপন শ্যালিকা বলে স্বীকার করেছেন। এই বেলী নাকি ইয়াবার চালানটি শরীফার নিকট জমা রেখেছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার মেয়ে বলতে পারবে জানিয়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ইয়াবাসহ শরীফা নামের কলেজ ছাত্রীকে কক্সবাজার সরকারী কলেজের হোষ্টেল থেকে হাতে নাতে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সে স্বীকার করেছে। তবে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রকৃত ইয়াবার মালিককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী